ঢাকা , সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ , ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাউখালীতে পরিত্যক্ত জমিতে তরমুজের বাম্পার ফলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-০৬ ১৬:১৪:২১
কাউখালীতে পরিত্যক্ত জমিতে তরমুজের বাম্পার ফলন কাউখালীতে পরিত্যক্ত জমিতে তরমুজের বাম্পার ফলন
 
 
 কাউখালী প্রতিনিধি 
 
পিরোজপুরের কাউখালীতে পরিত্যক্ত ও অনাবাদি জমিতে তরমুজ চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এক সময়ের পড়ে থাকা অনাবাদি পতিত জমিতে এখন শোভা পাচ্ছে বিশাল বিশাল সব তরমুজ। বাম্পার ফলন আর ভালো দাম পেয়ে কৃষকের চোখে-মুখে এখন স্বস্তির হাসি।
 
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের কেশরতা গ্রামের বিজয়নগর ব্লকে কচা নদীর তীরে প্রায় ৮৬ একর পরিত্যক্ত অনাবাদি জমিতে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে।  এসব জমি বছরের অধিকাংশ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতো। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে  এসএসিপি প্রকল্পের সহযোগিতায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং সঠিক নির্দেশনার ফলে কৃষকরা এখন এই জমিতেই সোনা’ ফলাচ্ছেন।
 
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মাঠজুড়ে তরমুজের সমারোহ। কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্ষেত থেকে তরমুজ তোলা এবং বাজারজাত করার কাজে। 
 এ বছর তরমুজ চাষের অনুকূল আবহাওয়া থাকায় ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে।
 
পরিত্যক্ত জমির ব্যবহার দীর্ঘদিনের অনাবাদি জমিতে নতুন করে পলি ও জৈব সার ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
উন্নত জাত ও উন্নত মানের বীজের ব্যবহার তরমুজের আকার এবং মিষ্টতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।
 
 সফল তরমুজ চাষি মিজানুর রহমান ও কামাল হোসেন বলেন, এই নদীর চর বছরের পর বছর পরিত্যক্ত ছিল, সেখানে কৃষি অফিসের পরামর্শে এবার তরমুজ চাষ করেছি। ফলন এত ভালো হবে ভাবিনি। বাজারেও তরমুজের বেশ চাহিদা রয়েছে, আশা করছি এবার ভালো লাভ হবে। কৃষকরা জানান, উপজেলা কৃষি অফিসার সোমা রানী, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার প্রদীপ কুমার হালদার ও উপসহকারী কৃষি অফিসার মাইনুল হুদা স্যার আমাদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাদের পরামর্শে আমরা আমাদের সাফলতা পেয়েছি। স্থানীয় কৃষকরা আরো বলেন, কচা নদীর তীরে ফসল রক্ষণ বাঁধ তৈরি করা হলে এই চড়ে আরো শতাধিক একর জমি চাষের আওতায় আনা সম্ভব।
 
কাউখালী উপজেলা কৃষি অফিসার সোমা রানী দাস জানান,আমরা কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আসছি যাতে তারা অনাবাদি জমিগুলো চাষাবাদের আওতায় নিয়ে আসে। তরমুজ একটি লাভজনক ফসল। এখানকার মাটি ও জলবায়ু তরমুজ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এই সাফল্য দেখে আগামীতে আরও অনেক কৃষক পরিত্যক্ত জমিতে তরমুজ চাষে আগ্রহী হবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।
 
স্থানীয় বাজারে ইতোমধ্যে এই সুস্বাদু ও রসালো তরমুজ উঠতে শুরু করেছে। আকারভেদে প্রতিটি তরমুজ ১০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই তরমুজ  দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে ।
 
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান জানান,অনাবাদি জমিতে তরমুজের এই বাম্পার ফলন কাউখালীর কৃষি অর্থনীতিতে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করেছে। কৃষকদের এই সাফল্য উপজেলার খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ